আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইং ১১:১১ পিএম.
আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের ভয়হীনভাবে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করার নির্দেশনা দিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ সরকার।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে এক সভায় অংশ নিয়ে তিনি এমন বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে।
বিএনপি নেতা মোঃ আবুল কালাম আজাদ সরকার বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ আজকে আমি বলতে চাই, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের যতগুলো (নেতাকর্মী) আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান করলেন, আগামী পরশু থেকে আপনারা হাটে, ঘাটে, বাজারে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করবেন। চুল পরিমাণ টুঁ শব্দ কেউ করবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজ যারা আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান করলেন আমি তাদের নিরাপত্তার বিষয়টা আগে নিয়ে আসি, কারণ তারা তো ভয়ে আছেন। তাহলে এখন আপনাদের কোনও ভয় সংশয় আছে কি?’ এ সময় উপস্থিত লোকজন না সূচক আওয়াজ তোলেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে মিউচুয়াল করার দাবি করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমি আগামীকাল (রোববার) ওসির সাথে বসবো। তার সাথে আমার কথা হয়েছে। তার সাথে বসে মিউচুয়াল করে নেবো। আমার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটা আওয়ামী লীগের কর্মীকেও যেন ধরা না হয়। আপনারা অবাধে চলাফেরা করবেন। যদি কোনও পুলিশ ধরে সেজন্য দায়ী আমি।’
নিজের কৃতিত্ব জাহির করতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, ‘ভূরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী উপজেলায় ২৫টি ইউনিয়নে ২৫ জন সভাপতি আছেন। ইনশাআল্লাহ এসপি সাহেব আমাকে বাই নেমে চেনেন, ডিসি সাহেবও আমাকে বাই নেমে চেনেন, ওসি সাহেবও বাই নেমে চেনেন। শুধু তাই নয়, আলহাজ মোঃ সাইফুর রহমান ( কুড়িগ্রাম-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী ) ২৫টা ইউনিয়নের দুই জন নেতাকেও যদি তার সবচেয়ে কাছের মনে করে তার মধ্যে একজন আমি, আরেকটা কচাকাটার তোলা ব্যাপারী।’
কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ সাইফুর রহমান রানাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি উপস্থিত লোকজনদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হলে ২০২৬ সালের ছয় মাসের মধ্যে এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
‘প্রত্যেকটা পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড হবে, প্রতিমাসে ২৫শ’ টাকা পাবে। হয় মাল নেবে না হয় টাকা নেবে। ওরা (জামায়াত) বেহেশতের টিকিট আখেরাতে দেবে, আর এরা (বিএনপি) নগদে বিশ্বাসী।’ যোগ করেন এই বিএনপি নেতা।
এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা মোঃ আবুল কালাম আজাদ সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিএনপির সদস্যসচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, আমাদের দলীয় বক্তব্য নয়। এজন্য তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, ‘ওই বিএনপি নেতাকে আমি চিনি না। তার নামও শুনিনি, তার সাথে কখনও দেখাও হয়নি। তিনি কেন এভাবে বলেছেন, সে ব্যাপারে আমি ওসির কাছে খোঁজ নেবো। আর তার আশ্বাসের কারণে পুলিশের কাজে কোনও প্রভাব পড়বে না। পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করবে।’
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের তো অনেকেই ফোন দেয়। ওই বিএনপি নেতার সাথে আমার এ বিষয়ে কোনও কথা হয়নি। আর আমরা কারও কথায় কাজ করি না। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে আসছি। আজও ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগের এক পলাতক ওয়ার্ড সেক্রেটারিকে ধরে নিয়ে এসেছি। কে কী বললো আমরা হিসাব করি কাউকে? আমরা কাউকে হিসাব করি না। কে কী বললো সেটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নাই। আমরা অপরাধী পেলে গ্রেফতার করবো।’